| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কোটচাঁদপুরে ৯১ বছর বয়সেও ভাতার কার্ড পাননি লতিফুন নেসা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৩:৩৩:অপরাহ্ন  |  ৩০১ বার পঠিত
কোটচাঁদপুরে ৯১ বছর বয়সেও ভাতার কার্ড পাননি লতিফুন নেসা

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা ৯১ বছর বয়সী লতিফুন নেসা এখনও কোনো সরকারি ভাতার কার্ড পাননি। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসার যোগ্য হলেও আজও কোনো ভাতা না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—আর কত বয়স হলে তিনি সরকারি সুবিধা পাবেন?

লতিফুন নেসা মৃত আবুল বিশ্বাসের স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছর আগে ৬০ বছর বয়সে তার স্বামী মারা যান। বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুজ তিনি। কয়েক বছর আগে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে দুই ছেলের পরিবারে পালাক্রমে থাকেন তিনি। বড় ছেলে কাশেম বিশ্বাস (৭০) বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন এবং ছোট ছেলে আবদুল খালেক বিশ্বাস (৬৫) শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজেদের সংসার চালানোর পাশাপাশি বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণ ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভাতার জন্য আবেদন করেও কোনো সুফল মেলেনি। সম্প্রতি তিনি ভাতার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

লতিফুন নেসা বলেন, “ভাতার টাকা পেলে নিজের ইচ্ছামতো কিছু কিনে খেতে পারতাম। নাতি-নাতনিদেরও কিছু দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু টাকা না থাকলে কীভাবে দেব?”

তার পুত্রবধূ শেফালী খাতুন বলেন, “আমরা কোনোভাবে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি। কিন্তু ওনার ওষুধ ও অন্যান্য খরচ চালানো খুবই কষ্টকর। সরকারি ভাতা পেলে চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানো সহজ হতো।”

প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি বিধবা। এখন তার বয়স ৯১ বছর। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ একাধিক ভাতা পাওয়ার যোগ্য তিনি। কিন্তু আজও কোনো ভাতা পাননি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন সময় ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্ড হয়নি।”

দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, “অপেক্ষমাণ তালিকায় ওই নারীর নাম আগে ছিল না। প্রায় ১৫ দিন আগে যে নতুন তালিকা করা হয়েছে, সেখানে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুযোগ এলে তাকে ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।”

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ দীপা রানী সরকার বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম, লতিফুন নেসা নামের এক নারী ৯১ বছর বয়সেও কোনো সরকারি ভাতার আওতায় আসেননি। তিনি ইতোমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধনও করেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ভাতার আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪