| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোল-শার্শায় বাড়ছে তালশাঁসের চাহিদা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ১৭:৩৫:৫৯:অপরাহ্ন  |  ২৮৯ বার পঠিত
বেনাপোল-শার্শায় বাড়ছে তালশাঁসের চাহিদা

বেনাপোল প্রতিনিধি: তীব্র দাবদাহে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা উপজেলায় ব্যাপকভাবে বেড়েছে তালশাঁসের চাহিদা। মধুমাসে বাজারে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের সমারোহ থাকলেও প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ বেশি ঝুঁকছেন তালশাঁসের দিকে।

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই বেনাপোলের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তালশাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে। বেনাপোল রেলস্টেশন রোড, হাইস্কুলের সামনে, নাভারণ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে তাল সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। চলমান তাপদাহে তালশাঁসের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।

একজন বিক্রেতা জানান, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত তিনটি শাঁস থাকায় একটি তাল ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করছেন তিনি।

ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর ও বাজারসংলগ্ন এলাকাতেও অসংখ্য বিক্রেতাকে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, কেউবা রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন।

শার্শা উপজেলার নির্মাণশ্রমিক মোহাম্মদ আলী বলেন, “সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”

নাভারণ বাজারে তালশাঁস খেতে থাকা আকিজ কলেজের শিক্ষার্থী রাইয়ান বলেন, “প্রচণ্ড গরমে তালশাঁস খুবই আরাম দেয়। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই সুযোগ পেলেই খাই।”

ক্রেতা মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, “তাল গরমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এর শাঁস ও রস খুবই সুস্বাদু এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত কিনতে আসি।”

চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই তালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অনেকের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে তাল ব্যবসা ভূমিকা রাখে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “তাল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও তাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ উপজেলায় গত বছর তালগাছের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯২২টি। নতুন করে ১ হাজার ২০০টি গাছ রোপণ হওয়ায় বর্তমানে মোট তালগাছের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১২২টি।”

তিনি আরও বলেন, চলমান দাবদাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪