| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ঢাকার দক্ষিণ সিটি, সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৫, ২০২৬ ইং | ২০:০১:২৯:অপরাহ্ন  |  ১০২২ বার পঠিত
ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ঢাকার দক্ষিণ সিটি, সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ড

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষা মৌসুমের আগে এডিস মশার লার্ভা জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। মশার ঘনত্বের ভিত্তিতে এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষা-পূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কিত এক অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক জরিপের বিস্তারিত ফলাফল ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আবদুস সালাম বলেন, গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী পরিচালিত মশক জরিপে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এ জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন। তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক কোবো টুলবক্স ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স ও পিউপা ইনডেক্সের ভিত্তিতে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের ভিত্তিতে ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জরিপ বলছে, পরিদর্শনকৃত বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

আবদুস সালাম বলেন, জরিপে মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পানি ধারণকারী পাত্র চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ড্রাম, মেঝেতে জমে থাকা পানি এবং বালতিতে জমে থাকা পানিতে উল্লেখযোগ্য হারে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে বাথরুম বা অন্যান্য স্থানে বালতিতে কয়েকদিন পানি জমিয়ে রাখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এডিস মশা নোংরা বা পচা পানিতে নয়, বরং পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে।

তিনি বলেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৬ জুন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালি আয়োজন করা হবে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে। এ ছাড়া ৭ জুন থেকে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে থাকা ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হবে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশাত পারভীন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪