| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৩৬ লাখ টাকার নতুন রাস্তা, কাজ শেষ না হতেই নড়বড়ে

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৯, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৫:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১৪৭৩৪ বার পঠিত
৩৬ লাখ টাকার নতুন রাস্তা, কাজ শেষ না হতেই নড়বড়ে

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মাঠে ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র মাটির রাস্তাটি পাকাকরণ হবে। বহু প্রতীক্ষার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শেষ হতে না হতেই সেই স্বপ্ন এখন স্থানীয়দের জন্য চরম ক্ষোভ আর হতাশায় রূপ নিয়েছে। প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকায় তৈরি এই রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার ইটগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে দুই পাশের এজিং।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাবুরপাড়া দাউদের পুকুরপাড় হতে ভিটির মাঠমুখী ৫০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যার মোট প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৮৭ টাকা। মেসার্স সর্দার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এই কাজ শুরু করে এবং ১ জুন ২০২৬ তারিখে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজের শুরুতে নিম্নমানের তিন নম্বর ইট নিয়ে এলে এলাকাবাসী তাতে বাধা দেয়। এলাকাবাসীর বাধার মুখে বেশ কিছুদিন রাস্তাটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হলে তারা এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেয়। ভালো ইটের সঙ্গে কিছু নিম্নমানের ইট মিশ্রিত করে তড়িঘড়ি করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়। ইচ্ছেমতো নিম্নমানের ইট ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়ায় মূলত কম ইটে পুরো ৫০০ মিটার রাস্তা পার করতে তারা হেরিংবন্ডের গাঁথুনিতে সিংহভাগ জায়গায় প্রতিটি ইটের মাঝখানে সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই ইঞ্চি করে ফাঁকা রেখে ইট বসায়। যা বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও জানান তারা। এছাড়া নিচের সোলিংয়ে একেবারেই কম পরিমাণ বালি দেওয়া হয়েছে। নিয়মানুযায়ী রাস্তায় কুষ্টিয়ার ভালো মানের বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও, নিচের ও ওপরের ভাগে স্থানীয় পুকুর থেকে তোলা একেবারেই নিম্নমানের কাদা-বালি ব্যবহার করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পুকুরচুরি চোখে পড়ে পুকুরপাড়ের গাইড ওয়াল নির্মাণে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এই গাইড ওয়ালের গাঁথুনিতে সিমেন্টের চেয়ে বালির পরিমাণই বেশি। পরিমাণমতো সিমেন্ট আনলেও নামমাত্র সিমেন্ট ও বালির এই জগাখিচুড়ি মিশ্রণে গাঁথুনি শেষ করে ঠিকাদারের লোকজন সেই সিমেন্ট ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার যে অবস্থা, রাস্তা করা আর না করা সমান। রাস্তার পাশে কোনো মাটি নেই। বৃষ্টি হলেই ভেঙে যাবে। রাস্তা আমাদের পছন্দ ও মনের মতো হয়নি। কাদা ছিল, তবুও ভালো ছিল। এখন হেরিং করে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের সত্যতা মেলে। ইটের মাঝখানে ফাঁকা থাকায় সামান্য চাপেই পুরো রাস্তার ইট নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে এজিং ভেঙে গেছে এবং সরে গেছে। এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি দিয়ে বাঁধাই না করায় অনেক স্থান থেকে মাটি সরে গেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার রাকিবুল ইসলাম জানান, রাস্তার কাজ এখনো ফিনিশিং দেওয়া হয়নি। এজিংয়ের পাশ দিয়ে মাটি দেওয়া হবে এবং রাস্তায় বালি দেওয়া হবে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ইট সরিয়ে নিয়ে তারা কাজ শুরু করে। কিন্তু রাস্তার কাজটি সঠিকভাবে হয়নি, এখনো স্থানীয়দের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তায় যে সমস্যাগুলো আছে, অবশ্যই সেগুলো ঠিকাদারকে ঠিক করতে হবে।

রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪