শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ যুবকদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ১১ দিন পর মারা গেছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফ (১৭)। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা মঙ্গলবার সাইফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আল মুহতাছিম সাইফ শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের প্রথম শিফটের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যান সাইফ। এ সময় পার্শ্ববর্তী দিঘারপাড় এলাকার নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০), স্বপন (২১) ও আরমান (২০) ছবি তোলার জন্য তাকে সরে যেতে বললে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সাইফকে মারধর করে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে মোবাইল ফোনে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করা হয় এবং রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত সাইফকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান।
সাইফের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে মঙ্গলবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সাইফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তার মরদেহ শেরপুরে আনা হলে দমদমা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রথম জানাজা এবং শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নে গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ওসি মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের ঘটনায় গত ৬ জুন নিহতের মা রেবেকা সুলতানা ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। সাইফের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি