| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মামলা জট কমাতে গ্রাম আদালতেই বিরোধ নিষ্পত্তির আহবান রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১০, ২০২৬ ইং | ১৮:০৪:২৭:অপরাহ্ন  |  ১২১৯ বার পঠিত
মামলা জট কমাতে গ্রাম আদালতেই বিরোধ নিষ্পত্তির আহবান রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: "বাংলাদেশে জনসংখ্যার পাশাপাশি মামলার সংখ্যাও অনেক বেশি। যেসব মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো যদি গ্রাম আদালতেই নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে মামলার জট কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি," বলে মন্তব্য করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন।

তিনি বলেন, “বিচারকের চেয়ার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এর মূল্য কোনোভাবেই অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। সৃষ্টিকর্তা বিচারকের চেয়ারটাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই যারা এই দায়িত্বপূর্ণ আসনে থাকবেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।”

বুধবার (১০ জুন) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালাটি বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, রাজবাড়ীর উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশিক উন নবী তালুকদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ, কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

এছাড়াও কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্ষম সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) চিহ্নিত করা এবং এ বিষয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে গ্রামীণ জনগণের কাছে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে কার্যকরভাবে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করা এবং স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও গণমাধ্যমের সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়মিত ফলোআপ ও প্রকল্পভিত্তিক কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

এসময় অন্যান্য বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করেন এবং গ্রাম আদালত বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারে সাংবাদিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

এছাড়াও তারা আরও বলেন, “স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে—চলো যাই গ্রাম আদালত” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি অবহিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সমন্বয়কারী আল নাহিয়ান।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪