ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মো. বুলবুল ইসলাম।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুস সালাম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের মো. ইশার উদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে মহিষমারী গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরহাদ আলীর বসতবাড়ির বারান্দা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন সকালে চুরির বিষয়টি টের পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ফরহাদ আলী স্থানীয় লোকমুখে জানতে পারেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম টাকার বিনিময়ে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেন।
ভুক্তভোগী ফরহাদ আলী জানান, এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুস সালামের কাছে যান। আব্দুস সালাম মোটরসাইকেলটি কোথায় আছে তা জানেন বলে দাবি করেন এবং ফরহাদ আলীর মোবাইল ফোন থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নম্বরটি সুকৌশলে মুছে দেন। এরপর মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২ হাজার টাকা দাবি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল বিকেলে মোটরসাইকেল এনে দেওয়ার কথা বলে আব্দুস সালাম ভুক্তভোগীকে ঠাকুরগাঁও সদর কোর্ট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করে আরও ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। টাকা নেওয়ার পরপরই আব্দুস সালাম ফরহাদ আলীকে বসিয়ে রেখে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে গতকাল রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুস সালাম বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় এলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনতা তাকে দেখতে পান। এ সময় মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি উল্টো আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে হুমকি প্রদান করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটকে রেখে বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফরহাদ আলী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চোর চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন