রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২০২১ সালে আলোচিত পরীমণি-নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, তদন্ত চলাকালে পরীমণির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিশেষ করে ২০২১ সালের ১ আগস্ট পরীমণির সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে যাওয়া এবং গভীর রাতে সেখান থেকে বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। ফোন রেকর্ড ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে আসে ঘনিষ্ঠতার তথ্য
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে পাওয়া কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে গোলাম সাকলায়েন বিভিন্ন সময়ে পরীমণির বাসায় যাতায়াত করেছেন।
এছাড়া পরীমণির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে তাদের ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বার্তাগুলো পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মত দেন যে, এগুলো সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত যোগাযোগের সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত ও প্রেমঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।
সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট পরীমণি প্রায় ১৭ ঘণ্টা সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও সাকলায়েন একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পরীমণির সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানো, জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাকে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ দেওয়া এসব আচরণ সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদা ও আচরণবিধির পরিপন্থী এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
ব্যক্তিগত শুনানি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং কারণ দর্শানোর জবাব পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কর্তৃপক্ষ। পরে বিধিমালার ৪(৩)(খ) অনুযায়ী ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েন ও চিত্রনায়িকা পরীমণির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম