| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাক আটকে এসইউভিতে আগুন, বিজেপি নেতাসহ নিহত ৩

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৯, ২০২৬ ইং | ০৫:১২:৫৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৫০ বার পঠিত
ট্রাক আটকে এসইউভিতে আগুন, বিজেপি নেতাসহ নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ হামলায় বিজেপির এক নেতাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ট্রাক দিয়ে একটি ফর্চুনার এসইউভির পথরোধ করে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাট থানার আওতাধীন নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভরত সিং ওরফে লল্লা সিং, তার চাচাতো ভাই ও পেশায় শিক্ষক নাগেন্দ্র সিং এবং সহযোগী বিরেন্দ্র সিং। গুরুতর আহত ময়াঙ্ক সিংকে বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত ভরত সিংয়ের পরিবারের দাবি, বালু খনি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভরত সিং ও তার সহযোগীরা ফর্চুনার গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে তাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মান্নু ত্রিপাঠী নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অন্যান্য গুরুতর ধারায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ভরত সিংয়ের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে বালু পরিবহন ও কথিত অবৈধ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভরত সিং ও স্থানীয় বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। কয়েক মাস ধরে চলা এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ছত্তিশগড় পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ত্রিপাঠী ও ঠাকুর পরিবারের মধ্যে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিনোদ পাসওয়ান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই একাধিক মামলা ও বিরোধ ছিল। সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নিহত ভরত সিংয়ের পরিবার এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেছেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াদে ও সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪