| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথর উত্তোলন

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৫, ২০২৬ ইং | ০৫:৩০:২০:পূর্বাহ্ন  |  ১২৮৩ বার পঠিত
বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথর উত্তোলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সংকটে গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনির ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ করতে না পারায় গত ১৯ মে থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।

তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বাজারে পাথর বিক্রির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খনির ভূগর্ভে পাথর ফাটানোর জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহের দায়িত্ব মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল)। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিস্ফোরক সরবরাহ করতে না পারায় ১৯ মে সকাল থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রথমদিকে খনি কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

এটি অবশ্য প্রথম ঘটনা নয়। বিস্ফোরক সংকটের কারণে এর আগেও একাধিকবার পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে মধ্যপাড়া পাথরখনিকে। ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে প্রায় দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল একই কারণে। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৫ সালেও বিস্ফোরক সরবরাহ জটিলতায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।

২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হওয়া মধ্যপাড়া পাথরখনি বর্তমানে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরখনি। খনিটির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে প্রথম চুক্তি হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আরও ছয় বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে জিটিসি। খনির তিনটি শিফটে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি এবং শ্রমিকদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন জানান, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য হওয়ায় এটি সমুদ্রপথে আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং শিপমেন্ট জাহাজ প্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে বিস্ফোরক দেশে আনতে দেরি হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি সিঙ্গাপুর অতিক্রম করেছে এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও জানান, খনির জন্য মোট ৩০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চালানে ৮৮ মেট্রিক টন বিস্ফোরক আসছে, যা দিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সময়ে বাকি বিস্ফোরক সরবরাহ করা হবে।

খনি কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবারও মধ্যপাড়া পাথরখনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪