| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়েসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারীর মৃত্যু

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৫, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৭:৫৮:অপরাহ্ন  |  ১৬১৪ বার পঠিত
লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়েসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারীর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাঁরা মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী ও তিন মেয়ে। এ ঘটনায় গণপিটুনির পর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁদের উভয়ের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের সাত সদস্য আহত হন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রেমঘটিত বিষয় ও টাকা-পয়সার লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। অভিযুক্ত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। একই ভবনের নিচতলায় থাকতেন অন্তর মজুমদার।

বৃহস্পতিবার সকালে অন্তর বাসায় ঢুকে শাহিনুর ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁরও মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘাতক অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণধোলাই দেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা যান। আরেক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। হতাহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত এক যুবককেও চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন এক যুবককে জনতা গণপিটুনি দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪