বাগেরহাট প্রতিনিধি : জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোসামাজিক সেবা প্রদান বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটের ধানশিঁড়ি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবু রাসেল। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ফিল্ড অফিসার (বাগেরহাট) ডা. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কাজ করেন। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা যখন থানায় আসেন, তখন তাঁদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকের এই প্রশিক্ষণ পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়িয়ে তাঁদের আরও সেবাবান্ধব করে তুলবে বলে আমি আশাবাদী।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবু রাসেল বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত অপরাধ দমনে কাজ করছি, কিন্তু ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ ও তাঁদের মানসিক অবস্থা বোঝার দক্ষতা আমাদের সেবাকে আরও কার্যকর করে তোলে। কর্মশালায় সারভাইভার-কেন্দ্রিক সহায়তা, যোগাযোগ দক্ষতা (সোলার) এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা (এমএইচপিএসএস) বিষয়ক কৌশলগুলো আমাদের পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে সহায়তা করবে।”
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, “পুলিশ কেবল আইনের রক্ষক নয়, তারা জনগণের সেবকও বটে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা যা শিখেছেন, তা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বাগেরহাটবাসীকে আরও উন্নত ও মানবিক সেবা প্রদান করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
প্রশিক্ষণ সেশনে ডা. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং তাঁদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, সারভাইভারের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত চাপে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ‘সেলফ-কেয়ার’ বা আত্মযত্নের বিভিন্ন কৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য জরুরি চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ প্রতিষ্ঠানে রেফারেল প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের বিশদ ধারণা দেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন