স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল ইকুয়েডর। লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উল্লাসে ভেসেছে হাজারো ইকুয়েডর সমর্থক।
গ্রুপ ‘ই’-এর প্রথম দুই ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র করায় ইকুয়েডরের সামনে ছিল জয়ের কঠিন সমীকরণ। শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব ৩২-এ উঠতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল জার্মানির। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে সহজ ফিনিশে বল জালে পাঠান জার্মান এই উইঙ্গার।
গোলটি নিয়ে আপত্তি তোলে ইকুয়েডর। তাদের দাবি ছিল, গোলের আগে আলেকজান্ডার পাভলোভিচের উঁচু পায়ের আঘাতে পেদ্রো ভিতে ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ না করায় গোল বহাল থাকে।
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা দ্রুত সামলে নেয় ইকুয়েডর। নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলোর গোলে সমতায় ফেরে দলটি। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭তম মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত। কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় কেভিন রদ্রিগেজের হেড ফ্লিক হয়ে বল চলে যায় গনসালো প্লাতার সামনে। সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠিয়ে দেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর।
গোলের পর গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। সমর্থকদের আনন্দে আকাশে উড়তে থাকে পানীয়ের কাপ, মাঠে ঢুকে উদযাপনে যোগ দেন বদলি বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও। শেষ ১৩ মিনিটের চাপ সামলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে ইকুয়েডর।
ম্যাচ শেষে ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে বলেন, এটি আমাদের জন্য বিশেষ একটি রাত। পুরো দেশ আজ উদযাপন করছে। কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও আমরা একসঙ্গে থেকেছি, আর সেটিই আমাদের শক্তি।
আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত এই কোচের অধীনে এবারই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ সালে প্রথমবার শেষ ষোলোয় খেলেছিল তারা।
প্রথম দুই ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বেকাসেসে। তবে জয়ের পর তিনি বলেন, যারা এখনো আমাকে বিশ্বাস করতে পারেননি, তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ইকুয়েডরের মানুষ সবসময় পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ। আমরা সেই চেতনাকেই মাঠে তুলে ধরতে চেয়েছি।
জয়ের নায়ক গনসালো প্লাতা বলেন, প্রথম দুই ম্যাচে আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমরা চাইতাম আরও আগে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে। তবে এখন আমরা আরও ক্ষুধার্ত এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৩ সালের পর প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয় পেল ইকুয়েডর। যদিও তারা গ্রুপে জার্মানি ও আইভরি কোস্টের পেছনে তৃতীয় হয়েছে, তবে সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা।
অন্যদিকে, জার্মানির টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রারও ইতি ঘটেছে এই ম্যাচে। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে গড়া দলটির টানা ১২ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করা হলো না।
ম্যাচ শেষে জার্মান মিডফিল্ডার যোশুয়া কিমিখ বলেন, আজ পার্থক্য গড়ে দিয়েছে একটি বিষয়—ইকুয়েডর আমাদের চেয়ে বেশি জিততে চেয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সেটি স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।
উল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার ৬৬৩ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি চলতি বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ৫৬ ম্যাচ শেষে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭ জনে, যা ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি