রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ১১ দলীয় জোটকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু নির্বাচনের নামে কোনো ষড়যন্ত্র চাইনি। ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, আমরা এর নিন্দা জানাই। অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ, তারাও এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। তারাই স্বীকার করেছে যে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তারপরও আমরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। কারণ, এত বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল যদি আমরা প্রত্যাখ্যান করতাম, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারত এবং তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কেউ বলতে পারত না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, নির্বাচনের ফল মেনে নিলেও গণভোটের রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১১ বার তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এসেছে। তবে তিনি এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দেন।
তার ভাষায়, সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো কমিশনের দরকার নেই। সরকারি দল ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আনতে পারে, বিরোধী দলও বিল আনতে পারে। বিল সংসদে উত্থাপিত হবে, আলোচনা হবে, ভোট হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলে সেটিই আইন হিসেবে পাস হবে। এজন্য আলাদা সংশোধনী কমিশনের প্রয়োজন নেই। গণভোট হয়েছিল দেশের পচে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য, কোনো সংশোধনী কমিশন গঠনের জন্য নয়।
রিপোর্টিার্স২৪/ঝুম