| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিক্ষা অফিসার ষ্ট্যান্ড রিলিজ নৈশ প্রহরীদের বকেয়া বেতন দাবীতে বিক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৮, ২০২৬ ইং | ১৯:২৪:০৩:অপরাহ্ন  |  ৪৮৫৫৪ বার পঠিত
শিক্ষা অফিসার ষ্ট্যান্ড রিলিজ নৈশ প্রহরীদের বকেয়া বেতন দাবীতে বিক্ষোভ

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : অনিয়ম ও দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে শাস্তিমূলকভাবে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশ বলে বান্দরবানের খাগড়াছড়িতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ষ্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে শিক্ষা অফিসারের অন্যত্র বদলীর খবরে উপজেলার ৭৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনকে দায়ী করে গতকাল বুধবার দুপুরে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এসময় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ এর মধ্য দিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভ কারীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধীনে ৭৪ জন নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরি কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের অধীনে তারা গত কয়েক মাসধরে সরকারি বেতন পায় না। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হন পরিবার পরিজনদের নিয়ে। ঈদের সময়ে তারা কোন বেতন পায়নি বলে পরিবার পরিজনদের নিয়ে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে বেতনের দাবীতে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিলেও জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে কোন সদুত্তর পায়নি বলে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘারুয়া ইউনিয়নের রাজেশ্বরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জনৈক প্রধান শিক্ষকের কারিশমায় কতিপয় নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরিকে অনৈতিক উপায়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ করে  দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় কারো কারো বেতন নিয়মিত হলেও বৈধ দপ্তরীদের সিংহ ভাগ বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

ভিক্ষুক কারীদের বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ে কক্ষ থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা বেরিয়ে যেতেই তার কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন নৈশ প্রহরীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে পরে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও  নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী এবং শিক্ষক নেতাদের  নিয়ে বৈঠক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন। এরপর চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। 

আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরি আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ৭৪ জন নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরিদের মধ্যে অনেকে তিন মাস থেকে ছয় মাসের বেতন বকেয়া।  তাহলে উপলব্ধি করে দেখুন পরিবার পরিজন নিয়ে কতটা কষ্টে আমাদের দিন চলছে।

শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরিদের বেতন আসছে না এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। দপ্তরীদের নিজস্ব একাউন্টে বেতন জমা হয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন সরকারের থেকে বেতন দেওয়া হলে সকল দপ্তরীরা তাদের টাকা পাবে।তারা ভুল বুঝে আমাকে দায়ী করছেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান বলেন, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তার সাথে আলাপ হয়েছে। চলমান পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক্ষতিয়ে  দেখার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। 


রিপোর্টিার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪