নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি মৎস্য প্রকল্প দখল করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বাধা দেওয়া এবং হামলার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার বিকেলে চর মজিদ গ্রামের চান্দু মার্কেট সংলগ্ন মৎস্য প্রকল্পের পাড়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন প্রকল্পের লিজগ্রহীতা খামারি শের আলী। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে এসে কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং হামলার চেষ্টা চালান। পরে নিরাপত্তার কারণে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় জোবায়ের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রকল্পের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল, লিজগ্রহীতা শের আলী, স্থানীয় বাসিন্দা আইযুব আলী কাজল, কামরুল ইসলাম বাবু, সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও আবুল কালাম।
মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি চান্দু মার্কেট সংলগ্ন প্রায় আড়াই একর জলাশয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। ২০০৫ সালে সরকারিভাবে ওই জমির বন্দোবস্ত নেওয়ার পর নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করছেন। ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্পটি স্থানীয় খামারি শের আলীর কাছে লিজ দেন।
লিজগ্রহীতা শের আলীর অভিযোগ, তিনি গত দুই বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। সম্প্রতি নোমান, রুবেল, হেদায়েত, বায়োজিদ, মামুন ও আইয়ুব নামের কয়েকজন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৯ জুন তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক প্রকল্পটি দখল করে নেয়।
তার দাবি, এরপর দফায় দফায় জাল ফেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দখলমুক্ত করে প্রকল্প ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব উপপরিদর্শক (এসআই) আশ্রাফুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ