এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া: রাজধানীসহ সারা দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।
বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্নাও সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, গ্যাসের অভাবে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি বিশুদ্ধ পানি ফুটিয়ে পান করার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সেবাগত সংকট নয়; বরং জনস্বাস্থ্য, নাগরিক জীবন এবং মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর সঙ্গে রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় নজিরবিহীন লোডশেডিং যুক্ত হয়ে জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের এই চরম অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
জেবেল রহমান গানি ও এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বরং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে যেমন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি সরকারি আশ্বাস বাস্তবায়ন নিয়েও জনমনে প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, বর্তমান গ্যাস সংকট শুধু একটি এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার ফল নয়; এটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।
তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে নিজস্ব উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে ক্রমেই আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপের শীর্ষ নেতারা বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
পাশাপাশি তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের এই ন্যায্য দুর্ভোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, গ্যাস সংকটের প্রকৃত কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীর সামনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য তুলে ধরবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম