রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বেনজীর আহমেদ, আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দেশটির সরকার নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম।
বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থা ও তাকে ফেরাতে কতদিন লাগবে এসব বিষয়ে শুক্রবার (৩১ জুলাই) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলা জানায়, যেসব মামলায় বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল, সেগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে দুবাই পুলিশ। এ দফায় বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কিত আরও বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মামলাগুলো যেহেতু দুদক দেখছে, সেজন্য তাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারাই তথ্য-উপাত্তগুলো প্রস্তুতের কাজ করছে। বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, দুবাই পুলিশের চাওয়া যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোল হয়ে নথিপত্রগুলো দ্রুতই দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নথিপত্র ঠিকঠাক সরবরাহ করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো খুব একটা কঠিন হবে না।
কিন্তু আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ করে বেনজির আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরাতে ঠিক কতদিন লাগতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি দেশের মধ্যে অপরাধী হস্তান্তরের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু ভারত এবং থাইল্যান্ড ব্যতীত অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন চুক্তি নেই। ফলে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে কোন প্রক্রিয়ায় ঢাকায় ফেরত আনা হবে, ঘুরেফিরে সে প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে।
আইনজীবীরা বলছেন, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। সেগুলো হলো- অপরাধের বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, দু-দেশের আইনের সামাঞ্জস্যতা, আদালতে তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।
মূলত এ ৪টি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এমনটিই জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন। যিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছিলেন বেনজীর আহমেদ।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। এরপর ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আইজিপির পদ থেকে অবসর নেওয়ার বছর দু-এক পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে বেনজির আহমেদের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়, যা নিয়ে তখন বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এ ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম