| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১২, ২০২৬ ইং | ১০:৩০:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ৪৩৮৮ বার পঠিত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে চলমান আলোচনা সফল হবে কি না—এ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। এক লাফে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্রেন্ট ক্রুড পৌঁছে গেছে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির ব্যাপারে পুরোপুরি আশা হারায়নি। তবে মানুষের আস্থা যে স্পষ্টতই কমছে, তা বলা যায়।

ওয়াটেরার আরও বলেন, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়াই আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হবে এবং দাবিগুলো যত জটিল হবে, দ্রুত কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সংশয়ও তত বাড়বে। মাসের শুরুর দিকে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে আরও সতর্ক ও ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থানের দিকে সরে যাচ্ছে।

যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে এখনো মিশ্র সংকেত আসছে। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দোহা চায়, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার খুলে দেওয়া হোক।

তবে অন্যদিকে তেহরান বলেছে, ওমানের সঙ্গে তাদের চলমান আলোচনাকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইস্যু থেকে আলাদা হিসেবে দেখছে তারা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে রাজি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধই থাকবে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের মাত্রা একেবারেই নগণ্য।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করত।

এদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেই কেবল ওপেকের ক্রুড উৎপাদন বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে আশার আলো না দেখা গেলে তেলের দাম মৌলিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের স্তরেই অবস্থান করবে। কারণ এখন পর্যন্ত এই আলোচনায় খুব একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।


সূত্র: আলজাজিরা


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪