| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৭, ২০২৬ ইং | ১৫:১৩:৩১:অপরাহ্ন  |  ২২৭ বার পঠিত
তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তিস্তা নদী নিয়ে বিগত সরকারের সময়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ হয়েছে। তিস্তা নিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, নদী দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রারও অন্যতম ভিত্তি। তবে কোনো নদী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হলে এর স্বাভাবিক গতিপথ ও পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিস্তার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে বারবার নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নদীর গতি-প্রকৃতি কখন কোথায় যাবে, কীভাবে প্রবাহিত হবে এবং কোথায় গিয়ে থামবে—এসব বিষয় অনুমান করা কঠিন। তাই তিস্তাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নদীর গতি-প্রকৃতি কখন কোথায় যাবে, কীভাবে যাবে, কোথায় থামবে—এটা বোঝা খুব মুশকিল। এটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।’

তবে নদী নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, তিস্তা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আনতে গেলে আবার যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে সেটাও চিন্তা করতে হচ্ছে। আমাদের একটা ইন্টিগ্রেটেড ওয়েতে নিয়ে আসতে হবে। একটা সমন্বিত সমাধান আমাদের দরকার।’

তিস্তাপাড়ের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের নদীভাঙা মানুষদের জন্য যে কমিটমেন্ট, সেই কমিটমেন্টটাকে আমরা বাস্তবায়িত করতে চাই।’

তিস্তাপাড়ের মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিস্তা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী বন্ধু দেশকে যেমন নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে, তেমনি বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পার্শ্ববর্তী বন্ধু দেশকেও চিন্তা করতে হবে যে তাদের যেমন স্বার্থ রয়েছে, আমাদেরও স্বার্থ আছে। বন্ধু দেশেই তো বন্ধু দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমাদের স্বার্থের প্রতি তারা নজর দেবেন। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি বাংলাদেশ কখনো চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিস্তা প্রকল্পের প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্বে থাকার সময় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল।

পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমরা ১৭ বছর অনেকভাবে পিছিয়ে গিয়েছি। অনেক নির্যাতিত হয়েছি এবং স্বার্থবিরোধী অনেক কাজও হয়েছে।’

তিস্তা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি ও নদীভাঙনের সমস্যা আরও জটিল হয়েছে বলেও বক্তব্যে উঠে আসে।

দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যা যা করা দরকার আমরা সেটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব। তিস্তাপাড়ের মানুষ হিসেবে তিনি নিজেও প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের মানুষ হিসেবে আমিও আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে বলব যে দ্রুত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য জরুরি।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করেছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো দেশ তিস্তা প্রকল্পে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে এগিয়ে এলে বাংলাদেশ তা স্বাগত জানাবে।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চায়না গিয়েছি। নেদারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, অথবা অন্য কোনো দেশেও যদি আমাদেরকে এই টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন, অবশ্যই আমরা সেটাকে সাদরে গ্রহণ করব।’

তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা এবং নদীর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রেখে সমন্বিতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪