| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বরফ গলে উন্মুক্ত হওয়া আর্কটিক সমুদ্রপথে জাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২২, ২০২৬ ইং | ১৪:২৮:১০:অপরাহ্ন  |  ৩৪৪ বার পঠিত
বরফ গলে উন্মুক্ত হওয়া আর্কটিক সমুদ্রপথে জাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপথ ক্রমেই উন্মুক্ত হচ্ছে। সেই সুযোগকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে এবার প্রথমবারের মতো আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুট দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে একটি কনটেইনার জাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক এই যাত্রার মাধ্যমে আর্কটিক সমুদ্রপথ নিয়মিত বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহার করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা যাচাই করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দর থেকে ‘প্যানস্টার অ্যাক্রো’ নামের ২ হাজার ৭৫৮ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজটির যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের পূর্ব দিক ঘেঁষে বেরিং সাগর পাড়ি দিয়ে নর্দার্ন সি রুটে প্রবেশ করবে।

এরপর জাহাজটির যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম এবং পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে। পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর্কটিক অঞ্চলের নৌবাণিজ্যকে দক্ষিণ কোরিয়ার অগ্রাধিকারের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের আশা, নর্দার্ন সি রুট ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে বুসানকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে আর্কটিক রুটকে নিয়মিত বাণিজ্যপথ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে পণ্যবাহী জাহাজ পাঠিয়ে পথটির সম্ভাবনা, নিরাপত্তা, সময় ও ব্যয় সবকিছু মূল্যায়ন করতে চাইছে সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, প্রচলিত সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের তুলনায় আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করলে যাত্রার সময় প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে এ পথ সফলভাবে নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পরিণত হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আর্কটিক রুটকে ঘিরে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বরফের পরিস্থিতি, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন, সীমিত অবকাঠামো এবং বছরের সব সময় নিরাপদে জাহাজ চলাচল করতে পারবে কি না এসব প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজটি রাশিয়ার জলসীমা ব্যবহার করে ইউরোপে যাওয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে জাহাজটি আর্কটিক অঞ্চলের বরফে আটকে গেলে রুশ সহায়তার প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়েও দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে তথ্য নিয়েছে।

কারণ নর্দার্ন সি রুটের একটি বড় অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন বা রুশ জলসীমার কাছাকাছি। ফলে এই পথ দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করতে হলে রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বরফ গলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচলও বাড়ছে। নরওয়ের সেন্টার ফর হাই নর্থ লজিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নর্দার্ন সি রুট দিয়ে ৮৮টি জাহাজ মোট ১০৩ বার যাতায়াত করেছে। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৭টি। ২০২২ সালে মাত্র ৪৩টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করেছিল।

অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আর্কটিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীনের জাহাজই এই পথে সবচেয়ে বেশি চলাচল করেছে।

বরফ গলে যাওয়ায় উত্তর মেরুর সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনকে বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে দেখছে বিভিন্ন দেশ। তবে পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে সতর্কও করছেন।

তাদের আশঙ্কা, আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাড়লে কার্বন নিঃসরণ ও অন্যান্য দূষণও বাড়তে পারে। এতে স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণায়ন আরও দ্রুত হতে পারে। ফলে যে বরফ গলার কারণে নতুন বাণিজ্যপথ উন্মুক্ত হচ্ছে, সেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমই আবার ভবিষ্যতে পরিবেশগত সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সহায়তায় পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক যাত্রায় প্যানস্টার অ্যাক্রো প্রায় ৮৩৭ টিইইউ পণ্য বহন করবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক পণ্য এবং প্রায় ১০০টি খালি কনটেইনার।

এই যাত্রার মাধ্যমে মূলত নর্দার্ন সি রুটে বাস্তব বাণিজ্যিক পরিবহনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। যাত্রাপথে সময়, আবহাওয়া, বরফের পরিস্থিতি, জ্বালানি ব্যয়, নিরাপত্তা এবং রুট ব্যবহারের বাস্তব সমস্যা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে আর্কটিক রুট নতুন এক বাণিজ্যিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি, রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা এবং বছরজুড়ে নৌ চলাচলের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই পথকে কতটা কার্যকর ও স্থায়ী বাণিজ্যিক রুটে পরিণত করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


সূত্র: রয়টার্স


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪