| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে: দীনেশ ত্রিবেদী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৪, ২০২৬ ইং | ১২:৫০:৫৯:অপরাহ্ন  |  ২১৪২ বার পঠিত
আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে: দীনেশ ত্রিবেদী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ইস্যু থাকলেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, “আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে।” একই সঙ্গে দুই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভালো রাস্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এসব মৌলিক চাহিদা পূরণে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই। তবে সাধারণ মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা হলো উন্নয়ন ও ভালো জীবনযাপন।

দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষায়, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই, তবে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। উন্নয়ন ছাড়া কিছুই হতে পারে না। তার মতে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। তাই রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশের তরুণদের মধ্যে বিপুল মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যা যা করা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা উভয় দেশের দায়িত্ব। ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণদের চাহিদা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ অনেক মেধাবী। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যা করণীয়, তা করা সবার দায়িত্ব। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্স’ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ যেমন ভারতের ওপর নির্ভর করতে পারে, তেমনি ভারতেরও বাংলাদেশের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক এই নির্ভরতা দুই দেশের মধ্যে একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা যত বাড়বে, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও নির্ভরতাও তত শক্তিশালী হবে। অর্থনীতি ও রাজনীতি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো শান্তি। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের খুব বেশি চাওয়া নেই, তারা শান্তি চায়। শান্তি থাকলে সমৃদ্ধি আসে। দুই দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শান্তি ও সমৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পোশাক খাতে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি মনে করেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে কাজ করলে উৎপাদন ও বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে উভয় দেশের অর্থনীতিই লাভবান হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, আসুন আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে। সাধারণ মানুষের যে পাওনা, তা নিশ্চিত করা দুই দেশেরই দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; উভয় দেশই সমান।

তার মতে, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা সম্ভব।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মূলত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য ও পারস্পরিক নির্ভরতার পথেই এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪