রফিকুল ইসলাম মিঠু ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের সিনিয়র অপারেটর (জিএসই) মারফত আলী পালোয়ানকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে নিজ কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়টি ঘরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, মারফত আলী পালোয়ান (পি-৩৬২৮১) গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কথা ছিল। আদেশে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১৭ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ছয় দিনের বদলীজনিত ছুটি ভোগ শেষে ২৩ জুন চট্টগ্রামে যোগদান করবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মারফত আলী কে এখনো পুরোনো কর্মস্থলেই দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। অনেকের প্রশ্ন, বদলির আদেশ জারির পরও কীভাবে একজন কর্মচারী আগের কর্মস্থলে বহাল থাকেন? এর পেছনে কি কোনো অদৃশ্য প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক কোনো জটিলতা রয়েছে?
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বদলির আদেশ দ্রুত কার্যকর হলেও মারফত আলীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র।
এছাড়াও তিনি বিগত স্বৈরশাসক সরকারের আমলে বিমান শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে বলে জানা যায়। এ সময় নিজ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের ছেলেকেও বিমানের ইন্জিনিয়ারিং শাখায় চাকরি নিশ্চিত করেছিলেন। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সূত্রদের কেউ কেউ দাবি করছেন ঐতিহাসিক ২৪শে জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ভণ্ডুল করতে ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তবে তার সাংগঠনিক নানানমুখী প্রোগ্রামের তথ্য চিত্র পাওয়া যায় সংবাদ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
মারফত আলী পালোয়ানের দক্ষিণখান থানা এলাকায় তার নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের গুঞ্জন শোনা যায়। তার এ সম্পদ গড়ার অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সম্পদের উৎস কি তা একনো পাওয়া যায় নি।
জানা যায় ২২- ০৮- ১৯৯৬ সালে মারফত আলী পালোয়ান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমটি অপারেটর হিসেবে যোগদান করলেও বর্তমানে তিনি সিনিয়র অপারেটর (জিএসই) হিবেবে কর্মরত আছেন। সুত্রটির দাবি যোগদানের সময় তার বেতন ছিল মাত্র ৪ হাজার টাকার মতো। তবে কোন যাদুর কাঠির সাহায্যে তিনি এতো সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন সেটিও ক্ষতিয়ে দেখার দাবি করেছেন অনেকেই।
বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার পরও কর্মস্থল পরিবর্তন না করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরে কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়েছে নানা প্রশ্নও। আর এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর মিলবে কেবল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের মাধ্যমেই।
এ বিষয়ে জানতে মারফত আলী পালোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেনেজমেন্ট সিরিয়ালের বাহিরে করেছিল তাই আর ট্রানাছপার করে নাই। সাবেক এমপি হাবিব হাসানের সাথে সক্ষতা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন সব মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করি, সরকারি চাকরি করে কি সরকারের সাথে বিরোধিতা করা যায় । এক পর্য়ায়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রায় ৯৮ % লোকই শ্রমিক লীগে যোগ দান করেছিল। আর আমি ২০২১ সালের দিকে যোগদান করেছিলাম। সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে চাকরি করছি সম্পদ থাকবে না।
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা কেউ ফোন ধরেননি।
এখন দেখার বিষয়, বদলির আদেশ ঘিরে তৈরি হওয়া এই রহস্যের জট খুলবে কবে, আর প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কীভাবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম