কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: জনগনের অর্থ আত্মসাৎ ও টাকা ডিপোজিটের নামে প্রতারণার ১২৪ মামলায় পলাতক আসামি মো.আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও খুলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে সাধারন মানুষের কাছ থেকে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর আগে আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।গত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে বেশ কিছু কয়েদি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এই আনিছুর রহমানও ছিল।
এদিকে গতরাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।আনিছুর রহমানের বাড়ি কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাস।
শ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় একটি এনজিও চালু করে। পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহ সহ আশপাশের জেলায় কয়েকশ শাখা খোলেন আনিছ।
দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। এক পর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পদের পাহাড় গড়েন।২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে আনিছের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় তার।২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।রাজবাড়ীর পাংশার আব্দুল মাজিদ (৬৪) বলেন,সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে ১ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের এনজিওতে রেখেছিলাম। দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
এনজিওর নামে আনিছ প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।আনিছের ভাগ্নি বিনা খাতুন বলেন, দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। হয় টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি হোক।এ সময় ভুক্তভোগিরা আহাজারি করে বলেন আমাদের কষ্টের টাকা রেখেছিলাম এখন ফেরত দিক,সরকারের কাছেও তারা সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আবেদন জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম