| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, করতেন মাছ বিক্রি’, দাবি ফজলুর রহমানের

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ইং | ২২:১৫:০৫:অপরাহ্ন  |  ২২৩ বার পঠিত
‘জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, করতেন মাছ বিক্রি’, দাবি ফজলুর রহমানের

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও পেশায় ‘জেলে’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি টানানোর প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, এখন একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে, জিন্নাহ নাকি আমাদের দেশ বানায় দিছে। মোটেও না, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলে বানিয়েছি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আমি ছোট মনে করি না, আমি তাকে অসম্মান করি না।

তিনি বলেন, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯২৯ সালে তার ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দাবি ছিল।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতাদের ভূমিকার প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ‘৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ। এই আদর্শকে যতদিন পর্যন্ত না পরাজিত করা যাবে, ততদিন পর্যন্ত মনুষ্যত্ব আসবে না। তাই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। নজরুলের এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে পরাজিত করে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছি।  

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সদস্য সচিব মামুন সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমা ও সঞ্চালনায় ছিলেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন। নবীনবরণ শেষে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪