| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ইং | ২২:৪৯:৪৯:অপরাহ্ন  |  ২৪০ বার পঠিত
চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই এবার ছাড়িয়ে গেল পৃথিবীর সীমানাও! পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে এবার চাঁদের আশপাশকেও সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, মহাকাশে এরই মধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বলছে, চাঁদের কাছাকাছি মহাকাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সেনাদের।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-অস্ত্র মোতায়েন, অন্যদিকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি। যেটা আমরা শুধু এতদিন 'স্টার ওয়ার্স' বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি, এবার ঠিক সেটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে যার জন্য ২৫ হাজার সেনার এক বিশাল স্পেস ফোর্স তৈরি করছে আমেরিকা? সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এক নতুন মহাজাগতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ। সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের নতুন এই যুদ্ধের ফ্রন্টের কথা জানান। এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননের মতে, চীন মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিতে চায়। আর মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করাই স্পেস ফোর্সের কাজ। এর কয়েক দিন আগেই বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের ‘স্পেস ফোর্স’ দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যার বড় অংশই মোতায়েন থাকবে সরাসরি যুদ্ধের কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো সম্ভাব্য শত্রুরা মহাকাশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তুলেছিল বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তারা যুদ্ধকে মহাকাশে বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, যেখানে মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবুও পিছপা হচ্ছে না আমেরিকা। মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা চাঁদের চারপাশে যুদ্ধের ছক কষছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে উদ্বেগে সারা বিশ্ব। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪