| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাড়ি বিক্রি করেও থামেনি সাবিহার চিকিৎসা, অপারেশনের পর দুশ্চিন্তায় পরিবার

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ইং | ১৪:২৯:০৫:অপরাহ্ন  |  ৬৬৫ বার পঠিত
বাড়ি বিক্রি করেও থামেনি সাবিহার চিকিৎসা, অপারেশনের পর দুশ্চিন্তায় পরিবার

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: অভাবের সংসারেও মেয়েকে ঘিরে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু দুর্ঘটনায় তিন বছরের শিশু সাবিহার হিপ জয়েন্ট খুলে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মেয়ের অপারেশনের খরচ জোগাতে পৈতৃক বসতবাড়ি বিক্রি করেও থামেনি চিকিৎসার ব্যয়। অপারেশন সম্পন্ন হলেও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরও কয়েক লাখ টাকা। অর্থসংকটে দিশেহারা হয়ে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের তেলিকান্দা গ্রামের সাগর মোল্লা ও জুলি আখতারের পরিবার। মেয়ের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা।

শিশু সাবিহার বাবা সাগর মোল্লা জানান, একদিন রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল সাবিহা। অসাবধানতাবশত খাট থেকে মেঝেতে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, আঘাতের কারণে তার হিপ জয়েন্ট খুলে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন হবে তিন লাখ টাকার বেশি।

স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে মাসে মাত্র ৯ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন সাগর মোল্লা। এই সামান্য আয় দিয়ে দুই সন্তানসহ পরিবারের ভরণপোষণ চালানোই তাঁর জন্য কঠিন। এর মধ্যে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। নিরুপায় হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেন এবং শেষ সম্বল পৈতৃক বসতবাড়িটুকুও বিক্রি করে মেয়ের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন।

অস্ত্রোপচার সফল হলেও সাবিহার চিকিৎসার দুশ্চিন্তা কাটেনি পরিবারের। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা ও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন আরও কয়েক লাখ টাকা। বর্তমানে লোহার রডযুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তার বাবা-মা।

একদিকে বসতভিটা হারিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস, অন্যদিকে সংসারের খরচ ও মেয়ের চিকিৎসার ব্যয়—সব মিলিয়ে দিশেহারা সাগর মোল্লার পরিবার। সাবিহার পরবর্তী চিকিৎসা ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে কমপক্ষে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। অর্থের অভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হলে শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

সাগর মোল্লা বলেন, “মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আর সামর্থ্য নেই। মেয়েটিকে সুস্থ করে তুলতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ রাসেলের উদ্যোগে পরিচালিত মানবিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ সাবিহার অস্ত্রোপচারের আগে ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে। এ জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংগঠনটির পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া বলেন, তিনি ভাঙ্গা বাজারের একজন ক্ষুদ্র মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। সাবিহার অসহায় পরিবারের পরিস্থিতির কথা জানার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ সংগঠনটি সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে সাবিহার চিকিৎসা এখনো চলমান। শিশুটিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আরও সহায়তা প্রয়োজন।

সাবিহার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও মানবিক সংগঠনটির পরিচালক। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে ছোট্ট সাবিহা।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪