| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শ্রমিকদের অবরোধে পাঁচ ঘণ্টা অচল লিংক রোড, দুর্ভোগে যাত্রীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০২, ২০২৬ ইং | ১৯:৪২:১৪:অপরাহ্ন  |  ২৪০ বার পঠিত
শ্রমিকদের অবরোধে পাঁচ ঘণ্টা অচল লিংক রোড, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে রাখার পর সড়ক ছেড়েছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। 

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবু মার্কেট থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শ্রমিকদের অবরোধে শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভুইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে তৈরি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কুতুবাইল ও কাঠেরপুল এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে সড়কে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে লিংক রোডে অবস্থান নেন। শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকার ছোট-বড় প্রায় ২০টি কারখানার শ্রমিকেরা প্রথমে শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মিছিল নিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে অগ্রসর হন।

একপর্যায়ে আন্দোলন লিংক রোডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে। শিবু মার্কেট থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত পৃথক পৃথক দলে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তাঁরা।

এর মধ্যে ভুইগড়ের কাছাকাছি এসবি গার্মেন্টসের শ্রমিকদেরও কারখানা থেকে বের করে আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালে সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বেলা আড়াইটার দিকে ভুইগড় মোড়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নেন। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে উভয় পক্ষ সড়ক থেকে সরে যায়। বৃষ্টি থামার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পরে বিকেলের দিকে শিবু মার্কেট এলাকায় আবারও জড়ো হন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি বিবেচনা ও আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাঁদের দাবিগুলো উপস্থাপন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়া হবে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধান আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার জন্য আশ্বস্ত করা হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কোথাও কোনো অবরোধ নেই। যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই যানজট কমে সড়কের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অবরোধ চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে আসেনি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪