| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘শত্রু’ তালিকা প্রকাশ আরএসএফ-এর: ঠাঁই পেল আদানি গ্রুপ, অপইন্ডিয়া ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ২৩:৫৩:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৯৩৯ বার পঠিত
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘শত্রু’ তালিকা প্রকাশ আরএসএফ-এর: ঠাঁই পেল আদানি গ্রুপ, অপইন্ডিয়া ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: ২ নভেম্বর 'সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা অবসান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস' উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস' (আরএসএফ) তাদের ২০২৬ সালের ‘প্রেস ফ্রিডম প্রিডেটরস’ বা বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল শত্রুদের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় মোট ৩৩টি ব্যক্তি, সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি স্থান পেয়েছে, যাদের মধ্যে ভারত থেকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে শিল্পগোষ্ঠী 'আদানি গ্রুপ' এবং কট্টরপন্থী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'অপইন্ডিয়া'। 

এ বছর তালিকায় প্রথমবারের মতো ঠাঁই পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসা দমনপীড়নের বিরুদ্ধে স্যাটায়ার ও কড়া সমালোচনার মিশ্রণে এই তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে আদানি গ্রুপকে সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ তারা সমালোচনামূলক রিপোর্টিং বন্ধ করতে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বা 'গ্যাগ স্যুট' প্রয়োগ করে থাকে। 

আরএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, আদানিদের বিরুদ্ধে বা তাদের সহযোগী সংস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ভারতে বর্তমানে বিভিন্ন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা ঝুলছে; এমনকি এক সাংবাদিককে সাম্প্রতিক একটি ফৌজদারি অবমাননা মামলায় গুজরাটের কারাগারেও দিন কাটাতে হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আদানি গ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে। 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভারতীয় নাম হিসেবে থাকা 'অপইন্ডিয়া'-কে ক্ষমতার প্রচ্ছায়ায় থেকে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আক্রমণ এবং জনমনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। আরএসএফ-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অপইন্ডিয়া নির্দিষ্ট কয়েকজন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে ৩০০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, যা পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার ট্রোলিং ও অনলাইন হেনস্থার সূচনা করে। রাজদীপ সরদেশাই, আরিফা খানম শেরওয়ানি, মোহাম্মদ জুবায়ের, মহেশ লাঙ্গা, রবীশ কুমার, রানা আইয়ুব ও প্রবীর পুরকায়স্থের মতো প্রবীণ সাংবাদিকদের পাশাপাশি 'দ্য ওয়ার', 'নিউজরুম' ও 'নিউজ লন্ড্রি'-র মতো স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলি অপইন্ডিয়া'র প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। 

আরএসএফ-এর এই মূল্যায়নে ভারতের সংবাদমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান নেমে এসেছে ১৫৭ নম্বরে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ ধাপ নিচে। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার এই চরম ধসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের ২৫ বছরের সূচকের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ এখন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে 'কঠিন' বা 'চরম উদ্বেগজনক' শ্রেণিতে পড়ে এবং সার্বিক গড় সূচক এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তালিকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিভাগে স্থান পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খর্ব করা, সরকারি ব্রডকাস্টারদের স্বাধীনতা হরণ করা এবং আইনি ও প্রশাসনিক হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে গণমাধ্যমের ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ চালানোর জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বছর আমেরিকার স্থানও ৭ ধাপ নেমে ৬৪ নম্বরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই ৩৩ জন 'প্রিডেটর'-এর তালিকায় বরাবরের মতো রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, নিকারাগুয়ার দানিয়েল ওর্তেগা, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেল এবং গাজা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর দমন পীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার স্থান পেয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪