ভাঙ্গা প্রতিনিধি :
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচল করার একমাত্র রাস্তাটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কোন সরকার সময়ে উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ অবস্থায় রাস্তা সংস্কারের দাবীতে রোববার দুপুরে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবক মহল।
বড়দিয়া দাখিল মাদরাসা ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন হাজী আবদুল আলী মাতুব্বর, মৃত কাদের মাতুব্বর, লাল মিয়া ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বাকি মিয়া। দাখিল মাদরাসায় চলমান শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। ৭জন শিক্ষক কর্মচারী প্রতিদিন কাদামাটি যুক্ত মেঠোপথে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন তাদের কর্মস্থলে।
বড়দিয়া ইসলামিয়া কাওমী মাদরাসা ১৯৭৮ সাল স্থাপিত হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকলের কাছে বেশ গ্রহণ যোগ্যতা পায় মাদ্রাসাটি।
দায়িত্বরত সুপার মাওলানা আবু জাফর বলেন ২০০ ছাত্র ছাত্রী ও ৫জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে গায়ের মানুষের চলাচল করার একমাত্র কাঁচা পথটি। দিন দিন এতটাই চলাচল করার অযোগ্য রাস্তা হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেছে মাদরাসায় আসা ও যাওয়ার একমাত্র কাঁচা পথটি। রাস্তা সংস্কার বা উন্নয়ন না হওয়ায় শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষকে বর্ষা মৌসুমী চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এতটুকুন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলেও কারো জানা নেই।
আলগী ইউনিয়ন বড়দিয়া বণিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা মাতুব্বর বলেন, বড়দিয়া চারপাড়া কুবুরদিয়া, পশ্চিম আলগী, নলিয়া ও কৈখালী বিভিন্ন গ্রামের ছেলে মেয়ে পড়ালেখা করে। কিন্তু রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় চরম বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এছাড়াও দুটো মাদরাসার সাথে এক একর ২০ শতাংশ জমির একটা গোরস্থান রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ মারা গেলে সেখানে দাফন কাফন করা হয়। রাস্তার পাশাপাশি গোরস্থানের সংস্কার উন্নয়ন জরুরী হয়ে ওঠেছে বলে জানান।
উল্লেখ্য দুটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ৮৮ নং বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭৫ জন কোমলপ্রাণ শিশুরাও প্রতিদিন কাদাযুক্ত মাটির পথে পায়ে হেঁটে মাদ্রাসায় ও বিদ্যালয়ে আসে সীমাহীন কষ্ট লাঘব করে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-অভিভাবক মহলের জোড় দাবী অচিরেই যেন বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিশেষ নজরদারির মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন এজন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন