মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের এক হামলায় ইরানের উত্তরাঞ্চলে এক পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (আইআরআইবি) এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রত্যাশিতভাবে ইরান প্রতিশোধ নিয়েছে, তবে একটি পরিচিত কৌশল অনুসরণ করেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানবে, তবে মৃত্যু বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার পরেও ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি আবার শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ নিয়ে বাসিন্দাদের আবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে গতকাল সোমবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এ হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের হামলাকে ‘দুর্বল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া আগাম সতর্কতা দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, তেহরান কারও ক্ষতি করেনি এবং "কোনও পরিস্থিতিতেই কারও আগ্রাসন" মেনে নেবে না। সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে একথা বলেছেন তিনি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, এই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব, আকাশসীমা এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, কাতার রাষ্ট্র হিসেবে, এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের জবাবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সরাসরি জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এ হামলা কাতার ও কাতারের জনগণের প্রতি কোনো হুমকি তৈরি করেনি বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ জুন) রাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই বিমান ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। পাশাপাশি, ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ’র মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, ‘ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিজয়ী হবে।’