বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থা বৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়া হবে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে এ সুযোগ ‘বৈষম্যবিরোধী ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়ের ব্যত্যয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এবারের বাজেট আমি এটাকে বলবো ব্যতিক্রমী বাজেট। এটা অপচয় কমানোর বাজেট, এটা অসংগতি কমানোর বাজেট।
দেশ আইসিইউতে ছিল, খাদের কিনারে চলে আসছিল সেসময় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, আমরা ক্ষমতা নেইনি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে (২০২৫-২০২৬) অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। আজ (৩ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর তার এ প্রত্যাশার কথা জানান। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমলে সুদহারও কমানো হবে বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছেন এটা বাস্তবসম্মত বাজেট। এটা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। মঙ্গলবার (০৩ জুন) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
আগামী এক জুলাই থেকে সরকারি-বেসামরিক, স্ব-শাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশ বাহিনীতে চাকরিরতদের বিশেষ সুবিধা হিসেবে নূন্যতম এক হাজার টাকা ও পেনশন ভোগীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০০ টাকা দেবে সরকার। প্রদেয় হবে। মঙ্গলবার (০৩ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ প্রবিধি-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপণে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
দেশের ৫৪তম বাজেট ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বয়স্ক, বিধবা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সুবিধাভোগী আরও ৫ লাখ পরিবার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরে জন্য বাজেটে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য ৪০৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সোমবার (২ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯ শতাংশ।
করমুক্ত সীমা পার হলেই যেকোনো এলাকার করদাতাকে সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা গুণতে হবে। তবে নতুন করদাতার জন্য এই পরিমাণ এক হাজার টাকা ঠিক করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বেশকিছু পণ্যের ওপর কর, শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। এর প্রভাবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা মধ্যবিত্তের জন্য দুঃসংবাদ।