| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের মুখে ভারত-চীন মৈত্রী: ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদি-শি বৈঠক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ৩১, ২০২৫ ইং | ১৪:১২:০৬:অপরাহ্ন  |  ১৫৬৮০৫০ বার পঠিত
ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের মুখে ভারত-চীন মৈত্রী: ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদি-শি বৈঠক

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি ভারত-চীন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনের বন্দর শহর তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকের মূল বার্তা ছিল পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

প্রধানমন্ত্রী মোদি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত ও চীনের ২.৮ বিলিয়ন মানুষের স্বার্থ পারস্পরিক সহযোগিতার সাথে জড়িত। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” মোদি আরও বলেন যে, দুই দেশের সম্পর্ককে কোনো তৃতীয় দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়, কারণ ভারত ও চীন উভয়ই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুসরণ করে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতির দিকগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বিশেষ প্রতিনিধিদের চুক্তি, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা চালু হওয়া উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতকে "অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দুই দেশকে দীর্ঘমেয়াদী এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। শি বলেন, "আমাদের সীমান্ত সমস্যাকে সামগ্রিক চীন-ভারত সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করতে দেওয়া উচিত নয়।" তিনি আরও বলেন, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে, তবেই দুই দেশের সম্পর্ক প্রতিশ্রুতিশীল, স্থিতিশীল এবং সুদূরপ্রসারী হবে। 

এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের নীতির কারণে ভারত এবং চীন উভয়ের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। ট্রাম্পের "ট্যারিফ আক্রমণ" ওয়াশিংটনের সাথে দিল্লি ও বেইজিং উভয়ের সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা তৈরি করেছে। এর ফলে, ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ভারতের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে যেন তারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে পারে। 

গত বছর গালোয়ানে সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্ক তলানিতে নেমে এসেছিল। তার আগে ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থা সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়িয়েছিল। তবে গত অক্টোবরে রাশিয়ায় ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে মোদি এবং শি-এর সাক্ষাতের পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সীমান্ত সমস্যার সমাধানে অগ্রগতি হয়েছে। এই বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ এবং বহু-পাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ন্যায্য বাণিজ্যসহ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে অভিন্ন অবস্থান সম্প্রসারিত করার বিষয়ে দুই নেতা একমত হন। 

শি জিনপিং মন্তব্য করেন যে, বিশ্ব এখন "এক শতাব্দীতে একবার" ঘটে এমন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং চীন ও ভারত উভয়ই প্রাচীন সভ্যতা এবং গ্লোবাল সাউথের সদস্য হিসেবে তাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, এই বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে।

রিপোর্টার্স ২৪/এমবি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪