| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৫ কেন্দ্রে বন্ধ বিনামূল্যের ওষুধ

সব ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ইং | ০৬:৫২:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৩১৮১৬০ বার পঠিত
সব ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে

সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক আজারুল ইসলাম। গত শনিবার স্ত্রী পান্না আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তাকে ওষুধসহ খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। অথচ এর আগেও একই ধরনের অপারেশনে একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি, কারণ বিনা মূল্যের ওষুধ ও সরঞ্জাম পেতেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকেই।

আজারুলের অসহায় কণ্ঠে ক্ষোভ— “আমরা তো গরিব মানুষ। আগে সবকিছু ফ্রি মিলত, এখন সব কিনতে হচ্ছে। এই টাকা জোগাড় করতে ধারদেনা করতে হয়েছে।”

এ অভিজ্ঞতা কেবল আজারুলের নয়। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র ও মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে বিনা মূল্যের ওষুধ ও সরঞ্জাম (ডিডিএস কিট ও নরমাল ডেলিভারি কিট) সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচটি উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ৩৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং একটি পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক আছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে একটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র (এমসিডব্লিউসি) রয়েছে।

প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানে মা-শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারীসহ প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন।

তবে সরবরাহ সংকটের কারণে বছরে মাত্র ৭০০টি ডিডিএস কিট এবং ২০০টির মতো নরমাল ডেলিভারি কিট আসত—যা চাহিদার তুলনায় অতি অল্প। আর গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ।

জগন্নাথপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন,“আমাদের এলাকায় অন্তত ৫০–৬০ শতাংশ রোগী গরিব ও অসহায়। প্রতিদিনই ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায় সেবা গ্রহী তারা। অনেকেই রাগও করে। সর্বশেষ আমরা ওষুধ পেয়েছি গত বছরের নভেম্বর মাসে।”

আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পরিদর্শিকা আরিফা খাতুন জানান, “প্রতিমাসে গড়ে ৮০–৯০ জন গর্ভবতী নারী নিয়মিত চেকআপ করতে আসেন। আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিডের মতো ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন সরবরাহ নেই। এতে রোগীরা হতাশ হন।”

সদর এমসিডব্লিউসিতে গত এক বছরে ৫১৬টি নরমাল ডেলিভারি ও ১৫৬টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ডেলিভারির সময় রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী কিনতে হচ্ছে।

লিজা বেগম, যিনি সম্প্রতি এই কেন্দ্রে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, বলেন—“প্রসবের সময় অন্তত জরুরি ওষুধ সামগ্রী পাওয়ার কথা। কিন্তু সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।”

সদর উপজেলার আরেক নারী সারিদা অভিযোগ করেন, “গর্ভকালীন যে সব ওষুধ আমরা আগে বিনা মূল্যে পেতাম তা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই। এতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।”

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার লাবনী বসাক বলেন,“এক বছর ধরে ডেলিভারি কিট ও ডিডিএস কিট আসেনি। রোগীও কমে গেছে। কারণ তারা ওষুধ পেতে আসেন, কিন্তু আমরা দিতে পারছি না।”

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন,

“মাতৃত্বকালীন যে ধরনের সেবা দেওয়ার কথা তা দিচ্ছি। তবে ওষুধ না থাকায় রোগীদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।”

ঠাকুরগাঁও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক শামসুদ্দীন মোল্লা বলেন,“মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতি বিষয়ে আমরা নিয়মিতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে সব তথ্য দেখা যায়। তবু সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি।”



এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪