| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ইং | ১৪:১৮:৫১:অপরাহ্ন  |  ৭১২ বার পঠিত
রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবির ক্যাপশন: প্রতীকী ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাপের মুখে থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনবে।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার মতে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়টি আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।গত ১১ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এর আগে গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনায় ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। সে ছাড়টি শুধু সেসব দেশের জন্য ছিল, যারা কি না এই ঘোষণার আগে রাশিয়ার তেল জাহাজে ভরেছে এবং সেগুলো সমুদ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশের যুক্তি হলো, এই নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনেনি। কারণ ওই সময় সমুদ্রে বা বাংলাদেশের পথে রাশিয়ার কোনো তেলবাহী জাহাজ ছিল না।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা যখন চাপের মুখে রয়েছে, ঠিক সে সময়ে রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেল সংগ্রহের জন্য এই ৬০ দিনের ছাড় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর দুই মাসের ছাড় দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, কিন্তু আমরা এখনও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পাইনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ কমে আসার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাশিয়া থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই ছাড় চাওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে চলমান চুক্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে এক লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জ্বালানি চালান ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে। আমদানি করা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশেও অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট শুরু হয়। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগের কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের মতো বিশেষ ছাড় বা ‘স্যাংশন ওয়েভার’ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। গত ঈদের আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অন্তত দুই মাসের ডিজেল আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার পর ঈদের পরদিনই সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : টিবিএস

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪