| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আসামের শিক্ষককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৫ ইং | ০৭:১১:৫৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৩২২১৫ বার পঠিত
সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আসামের শিক্ষককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আসামের শিক্ষককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি

আসামের মরিগাঁও জেলার এক প্রাক্তন সরকারি স্কুল শিক্ষক খায়রুল ইসলাম কে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। ইসলাম, যাঁর বয়স ৫১ বছর, দীর্ঘদিন ধরে একটি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত ‘বিদেশি’ রায়ের পুনর্বিবেচনা পিটিশন বর্তমানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা ২৭ মে সকাল ১১টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রথম এই ঘটনা জানতে পারেন। ভিডিওতে এক বাংলাদেশি সাংবাদিক দাবি করেন যে খায়রুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তের কাছে অবস্থান করছেন। ইসলামকে চিনতে পেরেছেন তাঁর স্ত্রী রীতা খানম ও কন্যা আফরিন। 

ভিডিওতে দেখা যায়, খায়রুল ইসলাম নিজেকে মরিগাঁও জেলার খান্দা পুখুরি গ্রামের একজন প্রাক্তন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।ইসলামের আইনজীবী অভিজিৎ রায় জানান, ২০১৬ সালে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ইসলামকে বিদেশি ঘোষণা করলেও, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, অর্থাৎ আইনত এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলেই মনে করছেন পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী।

ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএসএফ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, ২৭ মে ভোরে আসামের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর সীমান্তে তারা বাংলাদেশের দিক থেকে একটি ‘বাংলাদেশি নাগরিকদের বড় দল’ ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল – এমন পরিস্থিতি প্রতিহত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “সতর্ক বিএসএফ সৈন্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেই দলকে চ্যালেঞ্জ জানায়, যার ফলে তারা ফিরে যায়।”কিন্তু এই বিবৃতি সরাসরি খায়রুল ইসলামের নাম বা অবস্থানের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়। তবে তার পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামকে ২৩ মে পুলিশ তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে এবং তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মাটিয়া ট্রানজিট ক্যাম্পে, যা তথাকথিত 'অবৈধ বিদেশিদের' আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে ২৭ মে সকালবেলায় হাত বাঁধা অবস্থায় একটি বাসে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়, যা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হয়েছে।ঘটনার নিন্দায় বুধবার AIUDF-এর এক প্রতিনিধিদল আসামের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে "পুশব্যাকের মাধ্যমে অমানবিক আচরণ" বন্ধের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। 

প্রতিনিধি দলে থাকা মানকাচরের বিধায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার এলাকা থেকে প্রায় ১৪ জনকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রাখা হয়েছে কারণ বাংলাদেশ বাহিনী তাদের গ্রহণ করছে না এবং বিএসএফও তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। এটা পুরোপুরি অমানবিক। খায়রুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে একজন, যাঁর মামলা এখনও বিচারাধীন। এমনকি সাব-জুডিস মামলার মধ্যে কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো আইন ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, রাজ্যে আরও অনেক ব্যক্তিকে পুলিশ তুলে নিচ্ছে এবং এই ঘটনাগুলো একটি 'ভয়ের রাজনীতি' প্রতিষ্ঠার অংশ।এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রশ্ন উঠেছে আসামে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলাগুলোর পরিচালনা ও মানবিক আচরণের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে। ইসলাম ও অন্যান্যদের ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও ভারতের নিজস্ব সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞেরা। এখন পর্যন্ত ইসলাম বা তাঁর পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে বিএসএফ বা রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি আসামে নাগরিকত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার রাজনীতির এক জটিল ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪