রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয় পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে যে লড়াই জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছিল, তারই প্রতিধ্বনি এবার শোনা গেল কলকাতার ভবানীপুরে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের রাজনৈতিক দুর্গ ভবানীপুরে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার সকাল থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্রে ছিল চরম উত্তেজনা। শুরুতে পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে কয়েক দফা গণনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে লিড নেন। এতে তৃণমূল শিবিরে স্বস্তি ফিরলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
১৮তম রাউন্ডের গণনা শেষে শুভেন্দু প্রায় ১১ হাজার ভোটে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও মমতাকে হারিয়ে বিরল রাজনৈতিক নজির গড়লেন শুভেন্দু অধিকারী।
ভবানীপুরকে দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এই কেন্দ্র থেকেই উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু এবার সেই ভবানীপুরই হয়ে উঠল তাঁর রাজনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতীক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব, নারী নিরাপত্তা ইস্যু এবং বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক প্রস্তুতি এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আরজি কর মেডিকেল কলেজের আলোচিত ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা তৃণমূল সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার শুধু ভবানীপুরেই নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়েই বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৩ আসনের বিধানসভায় প্রায় ২০০ আসনে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। নিজের খাসতালুকে মমতার পরাজয়কে এই নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি