| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতের ব্রহ্মস হামলার রাতে আমরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৫ ইং | ১৪:০৯:৪৮:অপরাহ্ন  |  ১৮১২০৮৪ বার পঠিত
ভারতের ব্রহ্মস হামলার রাতে আমরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, ভারতের ৯-১০ মে রাতের ব্রহ্মস মিসাইল হামলার সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিল। আজারবাইজানের প্রাচীন শহরে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা এখন পাকিস্তান ও ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।


প্রধানমন্ত্রী শরিফ বলেন, ‘আমরা ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়েছিলাম। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ১০ মে ফজরের নামাজের পর সকাল সাড়ে চারটায় পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই ভারত ফের ব্রহ্মোস মিসাইল ব্যবহার করে আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালায়।’


তিনি জানান, এই আক্রমণের খবর তাকে সরাসরি জানিয়েছিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির, যিনি সম্প্রতি ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হয়েছেন।


শরিফ বলেন, ‘সেনাবাহিনী পরিকল্পনা করেছিল ভোরের আলো ফোটার পর ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কিন্তু ভারত আমাদের সেই সুযোগ দেয়নি। ৯-১০ মে রাতেই আমাদের সামরিক অবকাঠামোর ওপর সুসংহত ও পরিকল্পিতভাবে ব্রহ্মস মিসাইল ছোঁড়া হয়।’


বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ। প্রকাশ্যে এমন স্বীকারোক্তি একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার দুর্বলতাও উন্মোচিত হয়েছে।


শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের আক্রমণ ছিল একপ্রকার প্রতিশোধমূলক অভিযান। পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন এবং মিসাইল হামলায় ভারতের একাধিক বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, নয়াদিল্লি এই পাল্টা আঘাতের সিদ্ধান্ত নেয়।


ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল দিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এর মধ্যে ছিল: রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি, রাফিকি এবং মুরিদ সামরিক ঘাঁটি, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর এবং চুনিয়ানের সেনা ছাউনি, স্কার্দু, ভোলারি, জ্যাকবাবাদ এবং সারগোদা বিমানঘাঁটি।


স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে জানা গেছে, এই স্থাপনাগুলোর অনেকগুলোতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নূর খান ঘাঁটিতে একাধিক সামরিক বিমানের ধ্বংস এবং রাডার সিস্টেম বিকল হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষণ কেন্দ্র।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া—তিনটি পরাশক্তিই এই উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনাটি সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রস্তুতির প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


শরিফের বক্তব্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধীদলগুলো একে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মারাত্মক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকার সমর্থকরা বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই স্বচ্ছ স্বীকারোক্তি একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনেতার পরিচায়ক।


দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের এই সাম্প্রতিক সংঘাত ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পুরো অঞ্চল তাকিয়ে আছে, আগামী দিনে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা কোন পথে হাঁটেন।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪