আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও ভারত হলো “ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার”। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, শুভেচ্ছা বার্তায় শি জিনপিং বলেন, গত এক বছরে চীন-ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত ও বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষা এবং এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় চার বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের পর দুই এশীয় শক্তিধর দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য এল। ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ওই ঘটনায় চারজন চীনা সেনা নিহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সেই সংঘর্ষের পর ভারত চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করে এবং চীনা বিনিয়োগের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে এসব সত্ত্বেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহত থাকে এবং বাৎসরিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের তিয়ানজিন সফর করেন। সে সময় তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সফরটি আসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের কয়েক দিনের মধ্যেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর শুরু করা শুল্কযুদ্ধ ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারের মধ্যে অন্যতম। অপরদিকে, চীনা পণ্যের ওপরও ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি ছিল পাঁচ বছর পর দুই নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত ও চীন উভয়ই ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার সমালোচনা করেছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় শি জিনপিং চীন ও ভারতকে ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নৃত্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশকে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং একে অপরের উদ্বেগের বিষয়ে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সুস্থ ও স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
যদিও সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা এখনও পুরোপুরি নিরসন হয়নি, তবু সম্পর্ক জোরদারে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত অক্টোবর পাঁচ বছর পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারত ধীরে ধীরে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনাও করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি