রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা ৯ মাস পর্যন্ত টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে। গতকাল শনিবার এই মৌসুমে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে পৌঁছেছে। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবে না।
সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পরিবহন খাতের মানুষের মধ্যে জীবিকা সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্বীপবাসীর অভিযোগ, পর্যটনকাল কমানোয় তারা ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি।
সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারেন। তবে এবার সময়সীমা ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া নভেম্বর জুড়ে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করেছেন। এ হিসাবে এক পুরো মৌসুমে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণ করেছেন। তবু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেননি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানিয়েছেন, আজ থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের পর পর্যটন পুনরায় চালু হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। সময়টা আরেকটু বাড়ানো হলে ভালো হতো।
দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম জানান, পর্যটক আসা বন্ধ হচ্ছে। আমাকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি।
কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এবার আমরা কোনো আয় করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকার কিছু বিনিয়োগকারী হোটেল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠন করে বাণিজ্য করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম