রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাত সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারি জোরদার করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এমন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাইবার হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাত অর্থ পরিশোধ, লেনদেন প্রক্রিয়া ও শেয়ারবাজারের লেনদেন প্ল্যাটফর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাত দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্য।
শিল্পসংগঠন এসআইএফএমএ এর সাইবার ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টড ক্লেসম্যান বলেন, বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়। বড় ধরনের সাইবার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত অনলাইন গোষ্ঠী নিম্নমাত্রার সাইবার হামলা চালাতে পারে, বিশেষ করে বিতরণকৃত সেবা অস্বীকৃতি (DDoS) হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা সার্ভারকে অচল করে দিতে পারে।
ঋণমান সংস্থা মর্নিংস্টার ডিবিআরএস ও বিনিয়োগ ব্যাংক লাজার্ডের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় তেলের উচ্চ মূল্য, ঋণগ্রহীতাদের চাপ এবং সাইবার ঝুঁকি একসঙ্গে ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শিল্পভিত্তিক তথ্য বিনিময় সংস্থা এফএস-আইএসএসি ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে সাইবার হামলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল আর্থিক খাত, এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধ পরিস্থিতি অনলাইন হামলার প্রবণতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই আর্থিক খাত এখন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা, বিকল্প ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতায় জোর দিচ্ছে, যাতে বাজারের আস্থা বজায় থাকে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম