ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনাই হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হবে,এমন কোনো আলোচনা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং ট্রাম্পের দাবিকে ‘অলীক’ বলে উপহাস করেছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি রয়েছে ট্রাম্পের। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে নানা জটিলতায় সেই চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলেও বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী সংঘর্ষবিরতি চলছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমাধান না এলেও আবারও আলোচনায় বসার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাদের কাছে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। তিনি “পারমাণবিক ধুলো” শব্দ ব্যবহার করে বলেন, ইরান তা যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।
তবে ইরান এ দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি এবং যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি ইরানের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ীই হবে।
পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করুক। তবে তেহরানের দাবি, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এ নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি