আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ইরান যুদ্ধের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে এবং তাঁর নেট অ্যাপ্রুভাল বা জনসমর্থন এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রখ্যাত বিশ্লেষক নেট সিলভারের সংগৃহীত জাতীয় জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৫ মার্চ থেকে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪.১ পয়েন্ট কমে মাইনাস ১৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ৫৬.৫ শতাংশ মার্কিনি তার কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যেখানে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৯.৫ শতাংশ।
হ্যারি ট্রুম্যানের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার মেয়াদের এই পর্যায়ে এত কম জনসমর্থন নিয়ে চলতে দেখা যায়নি। এমনকি ২০১৫ সালের নভেম্বর বা বর্তমান বছরের শুরুর দিকের রেকর্ড নিম্ন অবস্থাকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে। অভিবাসন, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন নেতিবাচক অবস্থানে থাকলেও ইরান যুদ্ধ মূলত অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সিলভারের তথ্যমতে, ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত ৪ এপ্রিল এই যুদ্ধের সমর্থন মাইনাস ১৮.১ শতাংশে নেমে গেলেও বর্তমানে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়ে মাইনাস ১৫.১ শতাংশে অবস্থান করছে। যদিও ৫৩.৮ শতাংশ মানুষ এখনও এই যুদ্ধের বিরোধী। তবে গত বুধবার ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
গত রাতে মার্কিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন মাত্র ২.৩ শতাংশ দূরে রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ার বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেলের দাম কমে আসলে ট্রাম্প তাঁর হারানো জনপ্রিয়তা কিছুটা ফিরে পেতে পারেন।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি সভায় জয়ের সম্ভাবনা দেখালেও সেনেটে তাদের আধিপত্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খুব বেশি নিচে নামবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব