আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বন্দর ও উপকূল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকরের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি। বরং ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ ভেঙে যেতে পারেনি। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে ঘুরে গিয়ে ওমান উপসাগরে ইরানি বন্দরের দিকে ফিরে যায়।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, এই অবরোধ কার্যকর করতে ১০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য, এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং বহু যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা আটক, পথ পরিবর্তন বা জব্দ করা হতে পারে।
সোমবার জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্টদের জন্য জারি করা এক নোটিশে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের পুরো উপকূলজুড়ে এই অবরোধ প্রযোজ্য হবে। তবে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি পণ্যবাহী মানবিক সহায়তার জাহাজ পরিদর্শনের শর্তে চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সপ্তাহান্তে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই অবরোধের ঘোষণা দেন। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অবরোধ জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি