আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘শেষের পথে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে পৌঁছেছেন।
মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে এবং একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর আগে গত সপ্তাহান্তে সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন। এক ইরানি সূত্র জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতেই তার এই সফর।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও তেহরান ৩ থেকে ৫ বছরের সীমিত বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের কারণে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি বন্দর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা একাধিক তেলবাহী জাহাজকে বাধা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী এলাকায়ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে বাণিজ্য প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, এই অভিযান যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না; তবে ইরান এর বিরোধিতা করছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি “বৃহৎ সমঝোতা” চায়, যদিও দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ব্যাক-চ্যানেল আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি