| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রুশ ও ইরানি তেল আমদানিতে ছাড় নয়, ভারতের ওপর চাপ বাড়াল আমেরিকা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ইং | ২১:৪৫:১৪:অপরাহ্ন  |  ১১৭১১ বার পঠিত
রুশ ও ইরানি তেল আমদানিতে ছাড় নয়, ভারতের ওপর চাপ বাড়াল আমেরিকা

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর জন্য ইরান ও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে দেওয়া বিশেষ ছাড় আর নবায়ন করবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত নিষেধাজ্ঞার কোপ থেকে বাঁচতে দেশগুলোকে যে সাময়িক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ এখন শেষের পথে। 

বেসেন্ট সাংবাদিকদের জানান, গত ১১ মার্চের আগে সমুদ্রে ভাসমান তেলের চালানের জন্যই কেবল এই ছাড় প্রযোজ্য ছিল এবং সেই সুযোগ ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এর আগে গত ৫ মার্চ পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে সমুদ্রে আটকে পড়া রাশিয়ার তেল খালাসের জন্য ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে ৩০ দিনের একটি বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। সে সময় বিষয়টিকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার একটি স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রুশ তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ভারতের পরপরই অন্যান্য দেশগুলিকেও একই ধরনের ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ গত ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। একইভাবে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানি তেলের চালানের ওপর দেওয়া ছাড়ের মেয়াদও আগামী রবিবার শেষ হতে চলেছে।

ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়, ফলে বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা দেশটির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, বিশেষ করে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।ভারত কর্তৃক রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল, যার ফলে মার্কিন শুল্কের হার ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল। 

তবে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেন ট্রাম্প, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির পর কার্যকর শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনে। তবে নতুন করে ছাড় না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ভারতের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে পুনরায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪