আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার আবারও পদত্যাগের চাপে পড়েছেন, সাবেক এক কূটনীতিককে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জেরে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা স্টারমার এখন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। ইংল্যান্ডে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে আঞ্চলিক ভোটের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এই বিতর্ক সামনে এলো—যেখানে তার দল বড় ধরনের ভরাডুবির আশঙ্কায় রয়েছে।
লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সাময়িকভাবে সমালোচনার চাপ কমেছিল। তার বিরুদ্ধে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। তবে নতুন করে জানা গেছে, নিয়োগের আগে তিনি নিরাপত্তা যাচাইয়ে (ভেটিং) উত্তীর্ণ হননি,যা প্রধানমন্ত্রী জানতেন না বলে তার দপ্তর দাবি করেছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, স্টারমার সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেছে।
এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স বলেন, ভেটিংয়ে ব্যর্থতার বিষয়টি জানানো না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ। তবে তিনি মনে করেন, এতে স্টারমারের নেতৃত্ব সরাসরি হুমকির মুখে পড়েনি। তিনি স্বীকার করেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা এই তথ্য যথাসময়ে মন্ত্রীদের না জানানোয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
বিতর্ক প্রশমনে বৃহস্পতিবার রাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ডাউনিং স্ট্রিট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিন্সকে বরখাস্ত করা হয়।
তবে স্টারমারের দপ্তরের এই দাবি,যে তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এ সপ্তাহের আগে জানতেন না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের কার্যক্রমে তার নিয়ন্ত্রণ কতটা শক্তিশালী।
লেবার পার্টির এক আইনপ্রণেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আপাতত দলের ভেতর থেকে স্টারমারের বিরুদ্ধে বড় কোনো পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম। তবে এই ইস্যু তাকে ক্রমাগত চাপে রাখবে, বিশেষ করে ৭ মে’র স্থানীয় নির্বাচনের আগে।
অন্যদিকে, আরেকজন লেবার এমপি মনে করেন, সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিরও পদত্যাগ করা উচিত। যদিও হাউস অব লর্ডসের সদস্য জর্জ ফাউলকস সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনই স্টারমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বেপরোয়া সিদ্ধান্ত হবে।
বিরোধী রাজনীতিকদের মূল প্রশ্ন,স্টারমার কি ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন? কারণ, নিয়োগের সময় তিনি সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং কোনো ‘রেড ফ্ল্যাগ’ ওঠেনি।
গত বছরের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসনকে জানানো হয়েছিল যে তার নিরাপত্তা অনুমোদন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত নথিতে জেফরি এপস্টাইনর সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাপকতা প্রকাশ পেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি সরকারি নথি ফাঁসের অভিযোগে পুলিশের তদন্তের মুখে রয়েছেন, যদিও এ বিষয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনোক স্টারমারের ব্যাখ্যাকে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই গল্পের কোনো ভিত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন।
স্টারমার এর আগে ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি তার সম্পর্ক নিয়ে “প্রতারণার ধারাবাহিকতা” সৃষ্টি করেছেন এবং কীভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে সব নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি