ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল সম্মত হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি জানান, আলোচনায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে।
যদিও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে, ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন,ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
এই অবরোধকে তেহরান “যুদ্ধের পদক্ষেপ” হিসেবে দেখছে এবং ইতোমধ্যেই এর তীব্র সমালোচনা করেছে।
ইরান-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তারা এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধই করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তান এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা আয়োজন করেছে।তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর ইসলামাবাদ সফরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে:৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে;হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক, যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি তাদের সার্বভৌম অধিকার।
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প একদিকে কঠোর হুমকি অন্যদিকে আলোচনার আগ্রহ এই দুই অবস্থানের মধ্যে বারবার পরিবর্তন করেছেন।সাম্প্রতিক ঘোষণায় তিনি আবারও সামরিক হামলার বদলে আলোচনার পথে সময় দিতে চেয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ইসরায়েলের সম্মতি এখনো অনিশ্চিত,নৌ অবরোধ বহাল থাকছে,শান্তি আলোচনা ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়।বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামবে নাকি আবারও শুরু হবে
তা নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনার ওপর।রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি