স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মাঈদুল ইসলাম মুকুলের (৩৩) বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন মিরপুরের লালকুঠি মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ওই নারী বাদী হয়ে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এদিকে মামলার দুদিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামি মুকুল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী পেশায় একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অবস্থায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ওই ডাক্তার তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি তা এড়িয়ে চলতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার্স কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে ওই ডাক্তার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও একাধিকবার শারিরিক সম্পর্ক করেন মুকুল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত একজন স্থানীয় হুজুর ডেকে বিশ লাখ টাকা দেনমোহরে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন, তবে কোনো বৈধ কাবিননামা করা হয়নি। পরবর্তীতে একই বছরের জুলাই মাসে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ওই নারী বলেন, অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন। এর মধ্যে বদলি সংক্রান্ত খরচ, পড়াশোনা এবং মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে ওই ডাক্তার ঢাকায় বদলি হয়ে আসার পর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বিয়ে সংক্রান্ত একাধিক তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে, সাংবাদিক পরিচয় শুনেই ‘সাংবাদিক হলে আমাকে কল দিবেন না’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর আর তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
আসামী গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশারফ হোসনকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি এবিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। বরং ফোন কলটি তিনি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব