| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের পথে সরকার

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ইং | ০৯:৫২:০২:পূর্বাহ্ন  |  ৭৫৪ বার পঠিত
৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের পথে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: টালমাটাল বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দেশের অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করবেন।

প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এটি। সর্বশেষ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিলেন। তখন দেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ৫০০ ডলারের কিছু বেশি। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা, যা ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতেও পারে। যদিও এ হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়।

সরকারি পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও জনমুখী কর্মসূচির প্রতিফলনও বাজেটে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতা। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানো এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ সামাল দেওয়াও বড় উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণের কিস্তি আটকে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজেট পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।

রপ্তানি আয়ের নিম্নগতি ও রাজস্ব ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে বাজেট প্রণয়নে সরকারকে রক্ষণাত্মক ও বাস্তবমুখী কৌশল নিতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেটকে ‘ইতিহাসের সেরা’ হিসেবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহিঃখাত থেকে অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

একই সঙ্গে করের আওতা বাড়ানো, নতুন রাজস্ব উৎস খুঁজে বের করা এবং জনগণকে হয়রানি ছাড়াই কর আদায় বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বাজেটের আকার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। আমরা এসব বিষয় বাজেটে সমাধানের চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক নীতি গ্রহণ ছাড়া রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়।

বাজেট প্রণয়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বাজেট পরিপত্র জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে একটি স্বস্তিদায়ক বাজেট দেওয়া। কারণ জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪